দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্যালেস্টাইনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জেরে স্থগিত হওয়া মিসরের শিক্ষার্থী উসামা ঘানেমকে পুনরায় ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডন (কেসিএল)।
২২ বছর বয়সী ঘানেম চলতি শরতে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারবেন। প্রায় ১৮ মাস আগে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন প্যালেস্টাইনপন্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তার ভিসার স্পনসরশিপ প্রত্যাহারের উদ্যোগও নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টের শেষ দিকে ঘানেমকে পাঠানো এক ই-মেইলে বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, তার বিরুদ্ধে একাডেমিক-বহির্ভূত অসদাচরণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটি বহাল রয়েছে। তবে একইসঙ্গে জানানো হয়, স্থগিতাদেশের শর্ত তিনি ভঙ্গ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই বার্তায় বলা হয়, স্থগিতাদেশের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ হওয়ায় তাকে আর স্থগিত বা নিষিদ্ধ রাখার কারণ নেই। ফলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে তাকে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং কিংস কলেজ লন্ডনে প্রবেশের অনুমতি থাকবে।
এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে পৃথক একটি নথিতে ঘানেমের ভিসা স্পনসরশিপ পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও জানায় বিশ্ববিদ্যালয়।
ঘানেমের ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষাবিদ প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যালেস্টাইনের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ইসরায়েলের সমালোচনার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে মুসলিম ও বর্ণগত সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি চাপের মুখে পড়ছেন।
তবে ঘানেম তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। সিএনএনকে তিনি বলেন, পর্যালোচনার ফলাফল ভবিষ্যতের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ নজির’ তৈরি করেছে। প্যালেস্টাইনের অধিকার এবং গাজায় সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও পক্ষগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।
অন্যদিকে কিংস কলেজ লন্ডনের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ঘানেমের স্থগিতাদেশ দেওয়ার এক বছর পর বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য নেওয়ার কথা শুরু থেকেই নির্ধারিত ছিল। পর্যালোচনার পর একটি প্যানেল সিদ্ধান্ত নেয়, স্থগিতাদেশের জন্য নির্ধারিত শর্ত ঘানেম পূরণ করেছেন। তাই তাকে পুনরায় ভর্তি করাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও জানায়, অসদাচরণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় তারা ন্যায্যতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন কিংবা অন্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলার মতো আচরণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।
ঘানেমের ভিসা স্পনসরশিপের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাজ্যের ভিসা ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ (ইউকেভিআই)। শিক্ষার্থীর অবস্থার পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানানো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত দায়িত্ব।
এদিকে কিংস কলেজ লন্ডনের বিরুদ্ধে ঘানেমের করা একটি আইনি মামলাও চলমান রয়েছে। মামলায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, হামলা, ব্যক্তিগত ক্ষতি, বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যে আই